লক্ষ্যভ্রষ্ট - সুদীপ্ত বিশ্বাস





লক্ষ্যভ্রষ্ট

- সুদীপ্ত বিশ্বাস


পথিক আমি, পথের কাছে কথা আমার দেওয়াই আছে

ঠিক যে ভাবে ছোট্ট নদী ছুটতে-ছুটতে দারুণ বাঁচে!

মাধুকরী করেই আমি পাহাড় দেখে ঝর্ণাতলে

সেই যেখানে অরণ্য-বন ভালোবাসার কথাই বলে;

সেই সে দেশে যেই না গেছি ছুটতে ছুটতে হন্যে হয়ে

নদীও দেখি দারুণ খুশি, আমার জন্যে যাচ্ছে বয়ে।

টুনটুনিটার মতই সরল, আমার হাতে রাখল সে হাত

তারপরে তো আপন হল, নদীর সে গান, জলপ্রপাত।

ছপ-ছপা-ছপ সাঁতরে শুধু ডুব-সাঁতারে, চিৎ-সাঁতারে

যাচ্ছি ডুবে উঠছি ভেসে কুল না পেয়ে সেই পাথারে।

এরপরে তো হঠাৎ করে সেই ফোয়ারা উথলে ওঠে

এমনি করেই ঝলমলিয়ে বাগানজুড়ে গোলাপ ফোটে।

গেলাম ভুলে পথের কাছে কথা আমার দেওয়াই আছে

বন্দী আমি আটকে গেছি, আটকে গেছি তোমার কাছে!




ভালোবাসা যদি ফিরে পাই

- সুদীপ্ত বিশ্বাস


ভালোবাসা যদি ফিরে পাই

তবে তো নাচবো ভাই

তাধিন তাধিন...

পোড়া বিড়ি দেব ছুঁড়ে ফেলে।

ফেলে দেব তামাকের শিশি

ছেড়ে দেব সব ছাইপাঁশ

তেতো জল, বিলিতি বা দিশি।

ভালোবাসা যদি ফিরে পাই

তবে তো গাইবো ভাই

গলা ছেড়ে যা আসবে মনে

বাতাসকে বলে দেব আমি কত সুখি

আকাশকে বলে দেব আমি কত সুখি

পাহাড়কে বলে দেব আমি কত সুখি

তারাদের বলে দেব আমি কত সুখি।

ভালোবাসা যদি ফিরে পাই

তাহলে তো  ভাই

হয়ে যাব ফুল, পাখি, নদী।

ভালোবাসা ফিরে পাই যদি -

নরম পালক নিয়ে

রামধনু রঙ মেখে এসে

বয়ে যাব তির-তির,

পাহাড়ের দেশে।

ভালোবাসা যদি ফিরে পাই

তবে তো বাঁচবো ভাই

সমস্ত জীবন।

প্রতিটা মুহূর্ত বেঁচে বেঁচে

প্রতিটা শরৎ বেঁচে বেঁচে

প্রতিটা বছর বেঁচে বেঁচে

প্রতিটা দশক বেঁচে বেঁচে

তবুও তো ভরবে না মন।

বলে যাব, 'বড় ছোট এ জীবন।'




ঈশ্বর কাঁদছে

- সুদীপ্ত বিশ্বাস


পৃথিবী মারা গেছে, তার প্রাচীন খোলসে

লেগে নেই কোনো জন্মদাগ।

ধু-ধু প্রান্তরে শুধু নীরস পাথর।

নিস্তব্ধ বাজনা বাজছে ফাঁকা হাওয়ার বুকে।

একদিন নদী ছিল,পাখিদের গান ছিল,

সোনালী প্রভাত ছিল, ফুলে প্রজাপতি ছিল।

পাতায় পাতায় ছিল সবুজের ছাপ,

মানুষের ইট, কাঠ, জঙ্গলও ছিল তার বুকে।

চুপচাপ সব কিছু মুছে গেছে।

মৃত্যুর গভীর থেকে উঠে আসছে বিষাক্ত নিশ্বাস।

নক্ষত্রের ফ্যাকাশে আলোরা

শুরু করতে পারছে না নতুন কোনও গান।

প্রেতপুরীতে একলা দাঁড়িয়ে রয়েছেন ঈশ্বর।

আশেপাশে কেউ নেই যে হাত রাখবে তার কাঁধে।

ঈশ্বর কাঁদছে, তার জমাট কান্নারা সৃষ্টি করছে নতুন নদীর!



অভিলাষ

- সুদীপ্ত বিশ্বাস


তুমি যখন নদী হলে

আমার চোখে আলো

সাঁতরে ভাঙি উথালপাথাল ঢেউ

অনভ্যস্ত গহীন গাঙে

আনাড়ি এই মাঝি

তুমিই জানো, আর কি জানে কেউ?

ঠিক সে সময় ঝাপুরঝুপুর

বৃষ্টি যদি নামে

আকাশ জুড়ে গলতে থাকে মেঘ

সুখ সাঁতারে শ্রান্ত আমি

ঘুমিয়ে যদি পড়ি

জানবে আমার কেটেছে উদ্বেগ।

ঘুম ঘুম ঘুম ঘুমের দেশে

স্বপ্নমাখা চোখে

দুহাত দিয়ে জাপটে ধরি নদী

বাঁচতে রাজি অযুত বছর

আলোকবর্ষ পারে

ভালোবাসা, তোমায় পাই গো যদি।

সহজ তুমি সহজ হয়েই

থেক আমার পাশে

গ্রীষ্ম দিনে,দারুণ মরুঝড়ে

বুকের পাশে নরম ওমের

পালক হয়ে থেক

শীতের রাতে বরফ যদি পড়ে।




বাক্যহারা

- সুদীপ্ত বিশ্বাস


রাতদুপুরে আসছে উড়ে একটা দুটো স্বপ্ন পাখি

হারানো সেই সোনালি দিন, এখন একে কোথায় রাখি!

আবছা আলোয় চমকে দেখি সেই যে তুমি মেঘের মেয়ে

কলসি নিয়ে দুপুরবেলা একটু দুলে ফিরছ নেয়ে

হালকা রঙা কলকা শাড়ি, দুলছে বেণী ইচ্ছেমতো

স্তব্ধ চোখে থমকে থাকি, আরে এটাই সেই ছবি তো!

সেই যে যেটা হারিয়ে গেছে একটুখানি অসাবধানে

আজ পুরোটা রাখব ধরে, আজকে লিখে রাখব প্রাণে।

গভীর রাতে আবছা আলো, হতেও পারে চোখের ভুল

বলো না তুমি সত্যি করে,তুমি কী সেই টগরফুল?

যাচ্ছে খুলে স্মৃতির পাতা,ডাগর চোখে দেখছি খালি

অরফিউস ও ইউরিডিসি, বুদ্ধদেব ও আম্রপালি...

স্বর্গ বুঝি আসল নেমে আবছা আলো ঘরের কোণে

না বলা কথা অনেক ছিল পড়ছে না যে কিছুই মনে।

হঠাৎ দেখি কাঁদছ তুমি, তোমার চোখে অশ্রুধারা

তোমার মুখে আমার ছায়া আনন্দেতে বাক্যহারা।




Post a Comment

0 Comments